মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নারী ধর্ষণ সুদূরপ্রসারিত ও সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা: এপি

19

সোনালী ডেস্ক:   মার্কিন বার্তা সংস্থা এ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদন বলছে, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ দেশটির সেনাবাহিনীর সুদূরপ্রসারিত ও সুশৃঙ্খল পরিকল্পনারই অংশ। এপি প্রতিবেদনটি তৈরিতে ২৯ জন রোহিঙ্গা নির্যাতিতা নারীর সাক্ষাতকার নিয়েছে। এরা প্রাণভয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয় রাখাইনে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরকার সমর্থিত জাতিগত শুদ্ধি অভিযান চলছে।

এসব রোহিঙ্গা নারী জানান, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে তারা একাধিকবার ধর্ষণের স্বীকার হয়েছেন। তারা এপির এ ধরনের সাক্ষাতগ্রহণের সময় পৃথকভাবে কথা বলেন। তাদের প্রত্যেকেই বলেন, রাখাইনে দলবদ্ধভাবে তাদের ধর্ষণ করা হয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পোশাক পরিহিত সেনারাই তাদের ধর্ষণ করেছে। এসব রোহিঙ্গা নারীর বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছর। এপির এধরনের প্রতিবেদন এর আগে দেওয়া জাতিসংঘের পক্ষ থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা নারীদের নির্বিচারে ধর্ষণের প্রতিবেদনেরই প্রতিচ্ছবি।

জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত প্রমিলা প্যাটেন বলেন, নির্বিচারে এধরনের গণধর্ষণ ও হত্যাযজ্ঞোর কারণেই ৬ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নারী পুরুষ বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্দেশেই সেনারা এধরনের জঘন্য অপরাধ চালিয়েছে। ফ্রান্সের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস গত আগস্ট থেকে বাংলাদেশে ১১৩ জন রোহিঙ্গা নারীকে চিকিৎসা দিয়েছে যারা মিয়ানমারে রাখাইনে সেনাবাহিনীর হাতে ধর্ষণের শিকার হন।

তবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এধরনের ধর্ষণের কথা অস্বীকার করে আসছে। গত সেপ্টেম্বরে রাখাইনের একজন মন্ত্রী প্রশ্ন তুলে বলেন, এসব রোহিঙ্গা নারী তাদের ধর্ষণের কথা বলছেন, কিন্তু তাদের চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখুন, তারা কি ধর্ষণে প্রলুব্ধ করার জন্যে উপযুক্ত?

তবে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু কি এর আগে তার দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের নিন্দা জানালেও এখন তা বেমালুম অস্বীকার করছেন। ২০১১ সালে নোবেল পুরস্কার নেওয়ার সময় সু কির এধরনের বক্তব্য সম্বলিত ভিডিও টেপ বিশ্ববাসীকে বিস্ময়ের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। বাংলাদেশে যে ৬ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নারী পুরুষ গত আগস্ট মাস থেকে রাখাইন থেকে এসে আশ্রয় নিয়েছে তাদের সবার মুখেই নির্বিচারে গণধর্ষণ, হত্যাযজ্ঞ, লুটপাট, বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগের মত মর্মান্তিক কাহিনী উঠে এসেছে। প্রেস টিভি