ফেডপ্রধান হিসেবে ইয়েলেনের মেয়াদ বাড়াবেন না ট্রাম্প

28

মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) প্রধান জ্যানেট ইয়েলেনকে দ্বিতীয় মেয়াদে আর দেখতে চাচ্ছেন না প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরিবর্তে আগামী বছর তিনি এ পদে ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের (এনইসি) পরিচালক গ্যারি কনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ভাবছেন। মার্কিন রাজনৈতিক সংবাদ-বিষয়ক প্রতিষ্ঠান পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। খবর রয়টার্স।

হোয়াইট হাউজ, ক্যাপিটল হিল ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য উদ্বৃত্ত করে পলিটিকো জানিয়েছে, গ্যারি কন যদি ফেডপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করতে চান, তাহলে তাকে তা দেয়া হবে। যদিও সিনেটে কিছু রিপাবলিকান সদস্যের তার ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতকে তারা অগ্রাহ্য করবে না বলে জানিয়েছেন একজন জ্যেষ্ঠ কংগ্রেসনাল রিপাবলিকান।

এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নোত্তরে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র নাতালি স্ট্রোম বলেন, এনইসিতে নিজের দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালনের জন্য গ্যারি খুবই জনপ্রিয়।

এদিকে ডেমোক্র্যাটপন্থী ও গোল্ডম্যান স্যাকসের সাবেক প্রেসিডেন্ট গ্যারি কন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। গত বছর নির্বাচনী প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেন, তত্কালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্দেশে সুদের হার নিম্নে ধরে রেখেছেন জ্যানেট ইয়েলেন। তবে তাকে ফেডপ্রধানের দায়িত্বে আর দেখতে না চাওয়ার কারণ এটি নয় বরং ইয়েলেন রিপাবলিকান দলের সদস্য না হওয়াতেই পরিবর্তন আসবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এপ্রিলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন তিনি ইয়েলেনকে শ্রদ্ধা করেন।

কমোডিটি বিভাগের ট্রেডার হিসেবে গোল্ডম্যান স্যাকসে ১৯৯০ সাল থেকে নিজের পেশাজীবন শুরু করেন গ্যারি কন। অন্যদিকে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফেড চেয়ারম্যান হিসেবে বেন বারনানকের স্থলাভিষিক্ত হন জ্যানেট ইয়েলেন। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের প্রভাব কাটিয়ে ওঠার পরেও সে সময় মার্কিন অর্থনীতি টালমাটাল অবস্থায় ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর কোনো রাখঢাক না করে কর্মসংস্থান, মজুরি বৃদ্ধি ও মার্কিন নাগরিকদের আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। ইয়েলেনের নেতৃত্বে ফেড অর্থনীতিতে ব্যাপক হারে প্রণোদনা জোগায়। এর ফলে মার্কিন অর্থনীতি অনেকটাই চাঙ্গা হয়ে ওঠে। এছাড়া চলতি বছরের শেষ নাগাদ ফেডের ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের ব্যালান্স শিট সংকোচনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন ইয়েলেন।

ইয়েটন ভেন্সের আন্তর্জাতিক আয় বিভাগের সহকারী পরিচালক এরিক স্টেইন এ প্রসঙ্গে বলেন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিকীকরণের দিকে এগিয়ে নিচ্ছে ফেড। এ অবস্থায় ফেডের দায়িত্বে নতুন কেউ এলে কার্যক্রমগুলো এভাবে চলতে নাও পারে। যদিও ইয়েলেন বা তার পূর্বসূরি বেন বারনানকের তুলনায় গ্যারি কন ভিন্ন আঙ্গিকে ফেডকে নেতৃত্ব দিতে পারবে। কারণ বর্তমান ও সাবেক ফেডপ্রধান ইকোনমিকসে ডক্টোরেট ডিগ্রি নেয়া। অন্যদিকে তাদের চেয়ে আর্থিক বাজার বিষয়ে গ্যারি কনের বিস্তর জ্ঞান রয়েছে।

পলিটিকোর খবর নিয়ে ফেডের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য

করা হয়নি।

কংগ্রেসে ইয়েলেনের সাক্ষ্য; ডলারে পতন, শেয়ারে ঊর্ধ্বগতি: স্থানীয় সময় গত বুধবার কংগ্রেসে সুদের হার, মূল্যস্ফীতি ও মজুরি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বক্তব্য (টেস্টিমনি) দেয়ার কথা ফেডপ্রধানের। ধারণা করা হচ্ছে, জ্যানেট ইয়েলেন তার বক্তব্যে জানাবেন সুদের হার দ্রুত বৃদ্ধি করার মতো অবস্থানে ফেড এখনো পৌঁছেনি। এছাড়া মূল্যস্ফীতি ও মজুরি প্রবৃদ্ধির বিষয়টিকে ফেড কীভাবে দেখছে, তা নিয়ে আভাস দেয়া হতে পারে। এ ধরনের সম্ভাবনায় গতকাল ইউরোর বিপরীতে ডলারের মান এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে। তবে শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের ফরেন এক্সচেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি বিভাগের প্রধান অ্যাডাম কোল এ প্রসঙ্গে বলেন, ফেডপ্রধানের সাক্ষ্য আজকের (বুধবার) লেনদেনে ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। তবে ডলারের অবস্থান ফিরে পাওয়ার বিষয়ে আমরা আশাবাদী।