কেশবপুরের আলতাপোল তালতলার অভিমুখে রাস্তাটি কী ষড়যন্ত্রের শিকার?

3

কেশবপুর অফিস : আধুনিক কেশবপুরকে  উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে  প্রতিষ্ঠিত ‌করার  লক্ষে কাজ করে চলেছেন যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনেরসংসদ সদস্য ইসমাত আরা সাদেক।যার মহৎ উদ্যোগের বদলৌতে সদ্য একটি বাজেট অনুমোদন হয়, যেখানে যশোরের রাজারহাট থেকে শুরু করে চুকনগরপর্যন্ত সড়কটি ফোর লেনে রূপান্তরিত করার জন্য ৩৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির বাজেট অনুমোদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু  অত্যন্ত দুঃখের  ও দুর্ভাগ্যের  বিষয় যশোর  টু চুকনগর সড়কটির মধ্যে কেশবপুর থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে আলতাপোল গ্রামের এমন একটি জায়গা রয়েছে যেখানে মেইন রোড থেকে নেমেই কাঁদায় পাড়ি দিতে হয় বেশ কয়েকটি পাড়া ও মহল্লার হাজারো মানুষের। রাস্তাটি এখনো  কাঁচা আছে, যারফলে বৃষ্টি হলেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়  শত শত মানুষের এবং এই ভোগান্তির ফলে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুল-কলেজে যেতে  অসুবিধা হয়। অসুবিধাহয় খেটে খাওয়া গরীব মানুষদের। অসুবিধা হয়  নিত্যদিনের পথচারী ও  জনসাধারণের। এই কেশবপুরের মাটিতে উন্নয়নের কোন শেষ নেই, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, ব্রিজ-কালভার্ট, বিভিন্ন রাস্তা ইটের সোলিং-সিকরণসহ বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন খাতে  উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হলেও অবহেলার কারণে নজর পড়ছে না আলতাপোল তালতলার আজীবরের বাড়ী হতে আলতাপোল ঋষি পাড়া সংলগ্নরাস্তা হয়ে আলতাপোল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত কাঁচা  রাস্তাটিতে। যার ফলে বৃষ্টি হলেই প্রতিনিয়ত এই এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে।কেশবপুরের অসংখ্য উন্নয়নের মাঝেও আজও কেন অত্র এলাকার মানুষ মেইন রোড থেকে নেমেই কাঁদার কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত? আদৌওকী এই এলাকার কাঁচা রাস্তাটির দিকে উপর মহলের কোন দ্বায়িত্বশীলদের কারও নজর পড়ছে না?  নাকি পড়ার পরেও এড়িয়ে  যাওয়া হচ্ছে,  আসলে এই অবহেলা কার?

এ ব্যাপারে কেশবপুর সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রেহেনা ফিরোজের সাথে কথা বললে তিনি কপোতাক্ষ নিউজকে জানান, ২০১৬ ও ২০১৭ সালের বন্যায় আলতাপোল তালতলার রাস্তা দিয়ে একেবারেই চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ওই রাস্তাটি কাবিখা কর্মসূচির আওতায় আসলে আমার উপর দায়িত্ব পড়ে। আমি সেসময় বিগত বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ উঁচু করে মাটি দিয়ে রাস্তাটি সংস্কার কাজ সম্পন্ন করি। কিন্তু কাঁচা রাস্তাটি ইটের সলিং বা পিচ এর কথা থাকলেও এখনো সেটা হয়নি।

৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য অলিয়ার রহমান কপোতাক্ষ নিউজকে জানান- “গতবছর আমাদের বলেছিল এমপি মহোদয়ের কোটা থেকে রাস্তাটি করার কথা তবে এলজিইডি বলে রাস্তাটি আমরা করবো। কিন্তু না করার ফলে বৃষ্টি হলে ওই রাস্তাটি চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য ওই এলাকার বাসিন্দা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, রাস্তাটি ষড়যন্ত্রের শিকার। যার অন্যতম কারণ হলো ২০০১ সালে সাদেক সাহেব এমপি নির্বাচিত হলে সর্বপ্রথম এডিপি’র প্রকল্পে এই একটি মাত্র রাস্তা অনুমোদন দেওয়া হয়। সেই রাস্তাটি আজও পর্যন্ত এমন বেহাল অবস্থায় থাকাটা খুবই দুঃখজনক।

কেশবপুর সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ওই এলাকার বাসিন্দা এম এম কবির হোসেন বলেন, “আমি উপজেলা প্রকৌশলী এর সাথে আমাদের রাস্তার বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। কিন্তু কী কারণে এই কাঁচা রাস্তাটি ইটের সলিং বা পাঁকাকরণ করা হচ্ছে না সেটা আমার জানা নাই। তবে রাস্তাটি অতিদ্রুত হলে এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষের অনেক উপকার হবে”।

আলতাপোলের স্থানীয় আজিজুর বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি আক্ষেপ করে জানান, আমাদের এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে কষ্ট হয়। জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বললে তারা বলে- রাস্তার বাজেট হলে করা হবে, কিন্তু কবে করা হবে সেটা আজও জানতে পারলাম না।