শরিকদের আসন বণ্টনের দাবিতে বিস্মিত বিএনপি

9

ঢাকা : আগামী জাতীয় নির্বাচনেকে সামনে রেখে শরিক দলগুলোর পক্ষে এখনই আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনার দাবি উঠায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

শরিক দল এলডিপির পক্ষ থেকে এপ্রিলের মধ্যেই আসন ভাগাভাগির দাবি তোলার দিন বিএনপির এই নেতা ঢাকাটাইমসকে জানান, বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকা অবস্থায় এই আলোচনায় আসন বণ্টন নিয়ে এই আলোচনা হবে না, সেটা শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করেই ঠিক হয়েছিল।

২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট আগামী নির্বাচনে যাবেই এমন ঘোষণা এখনও আসেনি। আবার জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকা অবস্থায় জোট ভোটে যাবে না, এমন কথাই বলছেন জোট নেতারা। যদিও ভেতরে ভেতরে ভোটের প্রস্তুতিও নিচ্ছে বিএনপি।

এর মধ্যে মঙ্গলবার রাজধানীতে ২০ দলের অন্যতম শরিক এলডিপির ঢাকা মহানগর (উত্তর) শাখার সম্মেলনে জোটের শরিক নেতারা আসন ভাগাভাগির বিষয়টি নিয়ে এখনই ফয়সালার দাবি তোলেন।

এপ্রিলের মধ্যেই আসন ভাগাভাগির ফয়সালা চেয়ে এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘বিএনপি যদি ৩০০ আসনে নয়শ প্রার্থী তালিকা করতে পারে, এলডিপি তাহলে তিনশ আসনে কমপক্ষে ৬০০ জন প্রার্থীর তালিকা করতে পারে।’

‘এই সমস্যার সমাধান যদি এপ্রিলের মধ্যে করা না হয় তাহলে মনে করবো আপনাদের (বিএনপি) ইচ্ছার অভাব আছে। আপনারা সমাধান করেন কাকে কোথায় কোন আসন দেবেন।’

খালেদা জিয়া কারাগারে থাকা অবস্থায় শরিক দলের পক্ষ থেকে আসন ভাগাভাগির এই দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিস্ময় প্রকাশ করেন। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘মাত্র কয়েকদিন আগে  আমাদের সঙ্গে ২০ দলের বৈঠক হলো। যারা বক্তব্য দিয়েছেন বলে বললেন, তারাও সেখান উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শরিকদলগুলোর সবাই মতামত দিলেন এখনই আসন বণ্টন নয়।’

‘এই মুহূর্তে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাকে মুক্ত করেই আসন বন্টন নিয়ে কথা বলা হবে। জোটগতভাবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাব।’

আলোচনায় আসন বণ্টনের দাবি ঝাড়াও বিএনপির প্রতি ক্ষোভ জানান শরিক দল কল্যাণ পার্টির সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহীম, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা এবং এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ।

তাদের অভিযোগ বিএনপি শরিক দলগুলোকে যথাযথ সম্মান এবং মূল্যায়ন না করে না। সরকারের নানা প্রলোভন সত্ত্বেও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে না যাওয়ার বিষয়টি বিএনপি মনে রাখেনি বলেও অভিযোগ তাদের।

 

সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহীম বলেন, ‘গত নির্বাচনের (২০ দলের বর্জন করা দশম সংসদ নির্বাচন) আগে এলডিপি, কল্যাণ পার্টি, ন্যাপকে সরকারের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, নানা প্রলোভন ছিল, কিন্তু আমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছি গণতন্ত্র ও জোটের স্বার্থে। কিন্তু দুঃখ লাগে যাদের জন্য এই ত্যাগ করেছি তারা গত পাঁচ বছরে একবারও এ ব্যাপারে কোনো কথা বলেনি।’

দশম সংদ নির্বাচনে অংশ নিলে এলডিপিকে দশটি আসন, দুইজন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী দেয়ার প্রস্তাব ছিল জানিয়ে রেদোয়ান আহমেদ বলেন, কিন্তু আমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছিলাম। আমরা বিসর্জন দিয়েছিলাম। বিএনপিকে বলব, আমরা যারা নিবন্ধিত দল তাদের মূল্যায়ন করুন। কে কতজন মনোনয়ন চান তাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করুন। তাহলে কোথায় জোটের মধ্যে দ্বন্দ্ব দূর হবে। জোটের শরিকদের পথ পরিষ্কার করে দিতে হবে।’

শরিক দলগুলোকে অবমূল্যায়নের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমি তো ওইদিন মিটিংয়ে ছিলাম। সেখানে অবমূল্যায়ন করা হয়, এমন কোনো নমুনা দেখি নাই। কেউ সামান্যতম অভিযোগও করেনি। আমরা জোটগতভাবে আছি। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। এরপরও কেউ কোনো কথা বলেছেন কি না সেটা আমার জানা নেই।