আমাদের সঙ্গে রসিকতা করছে দুদক

7

ঢাকা : বিএনপির যে আট নেতার বিরুদ্ধে ১২৫ কোটি টাকা ‘সন্দেহজনক’ লেনদেনের তথ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান শুরু হয়েছে তাদের মধ্যে চারজন সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য ভুয়া বলেছেন।

বিএনপি নেতাদের দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশন নিজে থেকে এই অনুসন্ধান শুরুর কথা না, সরকারের চাপেই তারা এই কাজ করেছে। একে দুদকের নোংরা রসিকতাও বলেন বিএনপির এক নেতা।

মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির তিন নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিণ্টুও এসব কথা বলেন।

এদের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে কী গোয়েন্দা তথ্য মিলেছে সেটি প্রকাশ করার দাবি জানান মিণ্টু।

সম্প্রতি একটি অনলাইন পত্রিকায় বিএনপির আট নেতার ব্যাংক হিসাবে এক মাসে ১২৫ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য প্রকাশ হয়। গোয়েন্দা তথ্যের সূত্র ধরে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এই লেনদেনকে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ওই সংবাদের সূত্র ধরেই দুদক এ বিষয়ে অনুসন্ধানে সংস্থাটির উপপরিচালক সামছুল আলমকে দায়িত্ব দিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।

বিএনপির এই আট নেতা হলেন, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এম মোর্শেদ খান, হাবিব উন নবী খান সোহেল, তাবিথ আউয়াল। মোর্শেদ খানের ছেলে খান ফয়সাল মোর্শেদ খানের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান হচ্ছে।

ওই অনলাইন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনটি বেসরকারি ব্যাংকে আবদুল আউয়াল মিন্টুর হিসাব থেকে ১১, ১৫ ও ২২ ফেব্রুয়ারি মোট ৩২ কোটি টাকা তোলা হয়। একই মাসে তাঁর ছেলে তাবিথ আউয়ালের হিসাব থেকে তোলা হয় ২০ কোটি টাকা।

মোর্শেদ খানের ব্যাংক হিসাব থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি তোলা হয় ১৮ কোটি টাকা। তাঁর ছেলে ফয়সাল মোর্শেদ খানের হিসাব থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি তোলা হয় ৯ কোটি টাকা।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন ৩ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ১২টি চেকে ২১ কোটি টাকা তুলেছেন। এর মধ্যে ছয়টি চেকে টাকা তোলা হয়েছে ঢাকার বাইরে থেকে।

২৮ ফেব্রুয়ারি ও ৪ মার্চ ঢাকা ব্যাংকে মির্জা আব্বাসের হিসাব থেকে ১৬ কোটি টাকা তোলা হয়। এ ছাড়া নজরুল ইসলাম খান এবং হাবিব উন নবী খান সোহেলের ব্যাংক হিসাব থেকে বিভিন্ন সময়ে ৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘জীবনভর ৭ কোটি টাকা লেনদেন করেছি কি না তাই মনে পড়ে না। সেখানে আমাদের বিরুদ্ধে ১২৫ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে।’

‘আসলে এই অভিযোগের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আমাদের সঙ্গে নোংরা রসিকতা করছে। দুদকের অভিযোগ মিথ্যা-বানোয়াট।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে লিখতে পারেন, মিথ্যা মামলা দিতে পারেন। কিন্তু, এসব করে আমাদের নীতিভ্রষ্ট করা যাবে না। ঐক্য বিনষ্ট করা যাবে না।’

‘আমরা দীর্ঘ রাজনীতি করে বর্তমান পর্যায়ে এসেছি। উড়ে এসে জুড়ে বসিনি। তাই কেউ ফু দিলেই উড়ে যাব, এটা ভাবার সুযোগ নেই।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সরকার খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনকে বাধাদান এবং বিএনপিকে কালিমালিপ্ত করতেই আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এটা মিথ্যা ও বানোয়াট।’

তালিকায় থাকা স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এসব অভিযোগ একদলীয় শাসন কায়েমের অংশ। আসলে সরকার আর্থিক খাত ধ্বংস করে টাকা লুট করেছে। দেশে দুর্নীতি আজ একদলীয় হয়ে গেছে।’

‘আওয়ামী লীগ একদলীয় প্রচারণার জন্য ২৫টি নিউজ পোর্টাল খুলেছে। তারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করছে শুধু ক্ষমতা দখলের জন্য।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘ব্যবসা করি লেনদেন হতেই পারে। তবে যেভাবে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা বানোয়াট। গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে এ ধরনের অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

মিণ্টু বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থার উচিত মানুষকে সত্যটা জানানো। কারও বিশেষ কাজে ব্যবহৃত না হওয়া। আর দুদককে বলব- জনগণের টাকায় আপনাদের প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। জনগণকে হয়রানি করবেন না। বরং সুষ্ঠু তদন্ত করুন। নইলে এই দেশ ধ্বংস করার অংশীদার আপনারাও হবেন।