নড়াইলে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর উপাখ্যান

0

জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে গ্রামবাসির সংবাদ সম্মেলন

সোনালী দিন ডেক্স : বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পুলিশ, র‌্যাব ও দুদক যখন সারাদেশে সরকারি সম্পদ-সম্পত্তি উদ্ধার, দখলবাদের গ্রেপ্তার এবং সকল প্রকার দুর্নীতি অনাচার বিরোধী অভিযান চালাচ্ছে; বিরাট বিরাট রাঘব বোয়ালদের জেলে ঢুকাচ্ছে; সেই একই সময় নড়াইল জেলা প্রশাসকের অনন্য উদ্যোগ এর কবর রচনার পায়তারা চালাচ্ছে ‘অপরাধা জনপদ’ খ্যাত দক্ষিণ নড়াইলের একদল ভূমিদস্যু। নড়াইল অভয়নগর সীমান্তের ‘বিছালী-বর্ণি মোড়’ বাজারের বহু মূল্যবান ২২ শতকসহ বিপুল পরিমাণ সরকারি জমি গ্রাস করতে প্রকাশ্যে উঠেপড়ে লেগেছে ভূমিদস্যুদল। ঘটনাস্থলের সন্নিকটে থাকা বিছালী পুলিশ ফাঁড়ির ছোট দারোগা’ ভূমি দস্যুদের পক্ষে ‘কাজ’ করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
যশোরের ২য় মুন্সেফী আদালতের দেং ২২৭/ ৭৪ নম্বর মামলার অবৈধ, তঞ্চকী ও বেআইনী প্রক্রিয়ায় সৃষ্ঠ একতরফা রায় বাতিলের জন্য নড়াইল জেলা প্রশাসক (অর্পিত সম্পত্তি শাখা) ২১-৯-২০১০ তারিখে নড়াইল সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে দেং ১৭৬/ ১০ নম্বর মামলা দায়ের করেন। মামলা সরকার পক্ষের দাবিকৃত জমির পরিমাণ ৩ একর ১৯ শতক উল্লেখ করা হয়। অভয়নগরের বর্ণি ও নড়াইলের বিছালী মৌজার মোট ৭টি দাগের মধ্যে বিছালী মৌজাধীন সাবেক ১১৪৮ দাগের ২২ শতক জমির ওপর প্রতিদিন সকাল ও বিকালে ‘হাট-বাজার’ বসে এবং স্থানীয় জনসাধারণ অস্থায়ী দোকানপাট তৈরি করে সেখানে ব্যবসা করার কথাও বলা হয় মামলার বিবরণে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ওই সকল ব্যবসায়ীদের (মোট ১০ জন) একটি বিবরণীপত্র ২৩-০৮-২০১০ তারিখে জেলা প্রশাসকদের লিখিত নির্দেশ অনুসারে সংশ্লিষ্ট শাখায় নথিভুক্ত করা হয়, যার স্মারক নম্বর ১২৫।
নড়াইল জেলা প্রশাসক কর্তৃক দায়েরকৃত মামলায় সুস্পষ্টভাবে বলা হয় যে, যশোরের ২য় মুন্সেফী আদালতের ২২৭/৭৪ দেওয়ানি মামলার বাদী রামগোপাল ইন্দ্র কস্মিনকালেও নড়াইল থানাধীন বিছালী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন না। যশোরের অভয়নগর থানাধীন বর্ণি গ্রামের মৃত বসন্ত কুমার ইন্দ্রের জৌষ্ঠপুত্র তিনি। তার অপর তিন ভ্রাতা অমুল্য কুমার ইন্দ্র, প্রফুল্ল কুমার ইন্দ্র ও কানাইলাল ইন্দ্র ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের সময় এ দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে যায়। ফলে সরকারি বিধান অনুসারে তাদের নামীয় পৈাত্রিক জমাজমি শত্রুসম্পত্তি’ (অর্পিত-অনাগরিব সম্পত্তি) তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়; যা সরকারি সম্পত্তিরূপে গণ্য। অথচ উক্ত মামলার বাদী-রামগোপাল ইন্দ্র অসাধুপন্থা ও চাতুরতার আশ্রয় নিয়ে দেশত্যাগী ভ্রাতাগনের অংশের সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য উক্ত দেশত্যাগী ভ্রাতাগণের হাল ঠিকানা অভয়নগর থানাধীন ‘ধুলগ্রাম’ দেখিয়ে যোগসাজসি প্রক্রিয়ায় ২২৭/ ৭৪ নম্বর মামলাটি দায়ের করেন এবং সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে ১৩-১২-৭৪ তারিখে ‘একতরফা রায়’ করিয়ে নেয়; যা আইনত অবৈধ, তঞ্চকী ও অকার্যকর বটে। এ প্রসঙ্গে আরো বলা হয়; ‘যশোহরের বিজ্ঞ ২য় মুন্সেফের ঐ প্রকার একতরফা ডিক্রী দিবার আইনগত এবং আঞ্চলিক- (Terrilorial) আওতা (Jurisdicatio) ছিল না এবং নাই। উক্ত বেআইনী ও ভুয়া মামলায় অভয়নগর থানাধীন ধুলগ্রামের মৃত প্রিয়নাথ দত্তের পুত্র ‘রমেশ চন্দ্র দত্ত’কে প্রযত্নে মর্মে দেশত্যাগী ভ্রাতাগনের (বিবাদী) হাল ঠিকানা দেখিয়ে একতরফা রায়-ডিক্রী হাসিল করেন বাদী রামগোপাল ইন্দ্র। বস্তুত ২২৭/৭৪ নম্বর দেওয়ানি মামলার বিষয় বিবরণ মিথ্যা এবং ভূয়া। মামলাটি ১৯৭৪ সালের ৭ মে তারিখে দায়ের এবং ১৩ ডিসেম্বর ৭৪ তারিখে বাদির পক্ষে একতরফা রায় হয়; বিচার কার্যক্রমের এরূপ “বিদ্যুৎ গতি’ এ দেশে আর কোনো মামলায় খুঁজে পাওয়া যায়না বলে মন্তব্য করেন একজন সিনিয়র আইনজীবি।

এদিকে অন্যরকম আরেক বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে, সরকারি উল্লেখিত জমাজমি উদ্ধার এবং সুরক্ষার লক্ষ্যে নড়াইল জেলা প্রশাসক কর্তৃক দেং ১৭৬/ ২০১০ নম্বর দায়েরকৃত মামলা চলছে গত ৯ বছর ধরে। মাত্র ৬ মাসে সৃজিত অবৈধ মামলার বেআইনী রায় রদ-রহিতের এ মামলাটি আর কতোদিনে নিস্পত্তি হবে-এ এক গুরুতর প্রশ্ন। তথ্যসূত্রে আরো জানা যায়, বিরোধীয় জমিতে বিবাদীপক্ষীয় দুষ্টুচক্র কিংবা ভূমিদস্যু কোনো মহল যেনো দখল কিংবা বিবাদীপক্ষ উক্ত জমাজমি হস্তান্তর না করতে পারে-সে মর্মে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে গত ১১-৩-১৯ তারিখে বাদিপক্ষে বিজ্ঞ আদালতে আবেদন জানান, নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুর রশিদ। কিন্তু আজ পর্যন্ত তারও প্রতিবিধান হয়নি। আর, এই বিষয়টি জানার পর বর্তমান বিবাদিপক্ষীয় একদল ভূমিদস্যু উক্ত সরকারি জমিতে অবৈধ দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে; এবং তারা ইতোমধ্যে অবৈধ ও তঞ্চকী পন্থায় এস এ ১১৪৮ দাগের ২২ শতক জমির মালিকানা হস্তান্তরমূলক রেজিষ্টি দলিল সৃজন করেছে বলে এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। নড়াইল জেলা প্রশাসকের দায়েরকৃত মামলার প্রধান আর্কষণীয় জমিখন্ড অর্থ্যৎ বিছালী-বর্ণি মোড় বাজারের ২২ শতক সরকারি জমির ‘স্বীকৃত দখলদার’ ১০ ব্যক্তিকে মাদক ও অস্ত্রমামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে তাদের দোকানপাট ভেঙ্গেচুরে তছনছ করে দিয়েছে সরকারবিরোধী ভূমিদস্যুরা। এই চক্রটির নেতৃত্ব দিচ্ছে প্রতিবেশী ইউনিয়নের জনৈক চেয়ারম্যান । তিনি ক্ষমতাধর, ফলে এদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস নেই এলাকাবাসীর। বিছালী পুলিশ ফাঁড়ি শুধুমাত্র নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেননি; উপরন্ত অভিযোগ রয়েছে যে, পুলিশ ফাঁড়ির ‘ছোট দারোগা’ ভূমিদস্যু চক্রের পক্ষ নিয়ে ‘কাজ’ করেছেন- ব্যবসায়ীদের উৎখাত এবং দখলহীন করার ক্ষেত্রে। এ যেনো বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশিত “শুদ্ধি অভিযানের’’ সাক্ষাৎ প্রতিপক্ষ! এখানে উল্লেখ্য, নড়াইলের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো: আনোয়ার হোসেন আলোচ্য সরকারি সম্পত্তি রক্ষার উদ্যোগ নিলে ২০১১ সালের ১০ এপ্রিল একটি জাতীয় পত্রিকায় “নড়াইল জেলা প্রশাসকের অনন্য উদ্যোগ/ তিন যুগ আগের রায় বাতিলের জন্য মামলা” শিরোনামে একটি বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যা আজকে কালিমালিপ্ত করছে ভূমিদস্যুরা!
বিছালী বর্ণি মোড় বাজারের ‘স্বীকৃত দখলদার’ তথা ব্যবসায়ীরা এক প্রকার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গতকাল (৯ নভেম্বর) যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেন সেখানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সরকারপক্ষীয় ইমদাদুল গাজী। তিনি উপরোক্ত ঘটনায় জড়িত ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নড়াইল প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান।