বাজার নিয়ন্ত্রণে সাঁড়াশি অভিযান সময়ের দাবি

16

সোনালী ডেস্ক :  নিত্যপণ্যের বাজার জনজীবনকে অতিষ্ঠ করার উপক্রম। বাজারে গিয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা মাথার চুল ছিঁড়ছেন। ঊর্ধ্বমুখী দাম শুনে বাজার না করেই অনেকে বাড়ি ফিরছেন। সীমিত আয়ের কেউ কেউ চাহিদার কিঞ্চিত ক্রয় করে হাঁফ ছেড়ে বাঁচছে।

পিঁয়াজের বাজারে আগুন। কারো কারো মতে, পিঁয়াজের বাজারে ডাকাত পড়েছে। বাজারে মোটেও ঘাটতি পরীলক্ষিত হচ্ছে না। অথচ ঘাটতির কথা বলে বেশি দাম নেয়া হচ্ছে প্রকাশ্যে! চালের অবস্থাও তাই। মূলত সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিংয়ের অভাবে গলাকাটা দাম নেয়া হচ্ছে বলে মনে করে অভিজ্ঞ মহল।

আমাদের দুর্ভাগ্য এটাই যে, মানুষের ক্রয় ক্ষমতার কথা ভাবার মতো কেউ জায়গা মতো নেই। থাকলে নিত্যপণ্যের বাজার একটা অস্থিতিশীল হতো না। কজন হাতে গোনা দুষ্টপ্রকৃতির দুর্বৃত্তসম লুটেরা ব্যক্তির হাতের কালো টাকার দোহাই দিয়ে মানুষের ক্ষয়ক্ষমতা বাড়ার কথা যারা বলছেন, মানুষ তাদের জনপ্রতিনিধি নামের কলঙ্ক মনে করে।

শেয়ারবাজার লুটেরা, ব্যাংক লুটেরা, টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজদের অবৈধ টাকা আর হাতো গোনা সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়া মানে তো সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষমতা বাড়া নয়। সর্বস্তরের মানুষের ক্ষয়ক্ষমতার কথা যারা ভাবে না, তারা ক্ষমতায় থাকলে যা ঘটার; বর্তমানে সেটাই ষোলোআনা ঘটছে। মাঝখানে সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে।

বাজার-মূল্য শুধু নয়, নিয়ন্ত্রণহীন বাড়ি বাড়া, যানবাহনের অতিরিক্ত ভাড়া, সাতবার বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি এবং ২৫০ টাকার এক চুলা গ্যাসের মূল্য ৮০০ টাকা বৃদ্ধি মড়ার উপর খাড়ার ঘা বৈকি। লবণের কেজি ৪২ টাকা! এগুলোর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সমাজে যে কত বড় কুপ্রভাব ফেলছে, মানুষকে কতটা বিপাকে ফেলছে; সেটা বোঝার মতো মানুষের তীব্র অভাব বর্তমান সমাজে।

অত্যন্ত বড় দুঃখ ও পরিতাপের ব্যাপার- ব্যবসায়ীদের মতে, শুধু চাঁদাবাজি বন্ধ করতে না পারায় ২৫০ টাকার গরুর গোশত ৫০০ টাকার বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আর পথে পথে চাঁদাবাজির ফলে দ্রব্যমূল্য কয়েক গুণ বেড়ে যায় খোদ রাজধানী ঢাকায়। জবাবদিহিতার অভাবে এমন দুর্ভোগের কবলে পড়তে হচ্ছে ক্রেতা সাধারণকে।

বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু এটা করবেটা কে? সংসদ ও রাজনীতিতে ব্যবসায়ীর আধিক্যের ফলে বাজারে সর্বনাশ শুরু হয়ে গেছে। সিন্ডিকেটের কাছে দায়িত্বশীলদের জিম্মি বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল। বাজার সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া না হলে এটা জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুললে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক- ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন
ই-মেইল : jalam_prodhan72@yahoo.com