সাতক্ষিরার হাইব্রিড নেতার অস্বাভাবিক উত্থান, রাতারাতি হয়েছেন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ

0

সোনালী অনুসন্ধান ॥ দুর্নীতি আর অনিয়মে হঠাৎ ধনী হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জে মাত্র ৮ বছরে জিরো থেকে হিরো তারিকুল ইসলাম এখন আলোচিত ব্যক্তি। বর্তমানে প্রায় ৫০ কোটি টাকা আর সম্পত্তির মালিক এই তারিকুল স্থানীয় এমপি’র কথিত চাচাত ভাই। গত ২৬ জুন সাতক্ষীরার স্থানীয় ও অনলাইন পত্রিকাগুলোতে লিড নিউজে নলতা ম্যাটসের জিনিষপত্র কেনাকাটায় ২২ কোটি টাকা দুর্নীতির খবর প্রকাশ হয়। এতে গাত্রদাহ হয়ে খবরটি ধামাচাঁপা দেওয়ার সর্বচ্চ চেষ্টা করে তারিকুল। ঐ দুর্নীতির ঘটনায় অনেকেই জড়িয়ে থাকলেও মূল হোতা এই তারিকুল বলে জানা যায়। এসব মোটা অংকের সরকারি অর্থ লোপাট করে হজমের জন্য সে ঢাকার শ্যামলীতে গড়ে তুলেছে নলতা শরীফ সার্জিক্যাল নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার মাধ্যমে এমপি’র বিভিন্ন বাজেট গুলো হাতিয়ে নেয় সে। টেন্ডার বানিজ্য ছাড়াও নিয়োগ বানিজ্য, বদলি বানিজ্য, এলাকার সরকারি জমি ও গোলোযোগপূর্ণ জমি জায়গা কব্জার মত বিভিন্ন কাজেই তার হাত। আর এজন্য ব্যবহার করে কথিত চাচাত ভাই স্থানীয় এমপিকে।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা গ্রামের ওমর হালদারের ছেলে স্থানীয় এমপি’র কথিত চাচাত ভাই এই তারিকুল ইসলাম (৪৫)। মাত্র ১০-১২ বছর পূর্বেও ওমর হালদারের বৃহৎ সংসারের সদস্যরা অন্যের বাড়ীতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করত। আর এখন সেটিই রাজ পরিবারে পরিনত করে ফেলেছে ওমর হালদারের বড় ছেলে তারিকুল ইসলাম। মাদ্রাসায় পড়–য়া ছাত্র তারিকুল ইতিপূর্বে আ.লীগের দলীয় কোন কর্মকান্ডে না থাকলেও, সে খোলস পাল্টিয়ে ঐ এমপি’র চাচাত ভাই পরিচয় দিয়ে ২০১৩ সালের সহিংসতার পর এলাকার পরিবেশ পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে চলে আসে আ.লীগের ছায়াতলে। এবং ইউনিয়ন আ.লীগের কমিটির সহ-সভাপতির পদ দখল করে বলে জানা যায়। তার বড় বড় ছবির লিফলেট আর ব্যানারে ছেয়ে ফেলে এলাকা। সেখান থেকে এখন পর্যন্ত নব্য আ.লীগার এই তারিকুলই এলাকার দাপুটে নেতা। নব্য এই দাপুটে নেতা স্থানীয় আ.লীগের ত্যাগী ও প্রবীন নেতা-কর্মী এবং বর্তমান কমিটির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে রেখেছে নিজের ফায়দা লোটার জন্য। এলাকার চিহ্নিত মাদকবাহিনী নিয়ে তাঁর হিটলারি ও লুটপাটে ক্ষুব্ধ আর খান খান হয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। বর্তমান তারই ছত্রছায়ায় চলছে এলাকার জামায়াত, শিবির ও বিএনপি’র একাধিক সহিংসতা মামলার চিহ্নিন আসামীরা। আর এতে করে অত্র এলাকার আ.লীগের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে এই নব্য আ.লীগার তারিকুল ইসলাম। যে কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ আর হতাশার জন্ম নিয়েছে। যা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর আগামীর স্বপ্নকে ম্লান করতে চলেছে।
সম্প্রতি নলতার টাউনপাড়ায় এমপি’র বাড়ীর পাশেই তারিকুল হাকিয়েছে আলীশান বাড়ী। সম্পূর্ণ পাথরের তৈরি এই নির্মানাধীন বাড়ীর মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকা। নিজের চলাচলে ৪০ লক্ষ টাকা মূল্যের ব্যক্তিগত প্রাইভেট ক্রয়। নলতায় বর্তমানে প্রতি শতাংশ জমির মূল্য ৫-৭ লক্ষ টাকা। সেখানে নলতার পশ্চিমে মাঘুরালীতে ২শ ৯০ শতক ( অর্থাৎ ৯ বিঘা) জমি ক্রয় করেছে সে। যার মূল্য প্রায় ১২-১৪ কোটি টাকা। যেটা বিশাল প্রাচীর দিয়ে ঘেরা হয়েছে। নলতার ঘোড়াপোতার আইএইচটি ম্যাটসের পাশে (প্রধান সড়কের পাশে সিরাজ হাজীর জায়গা কব্জ করে) প্রায় ৯৯ শতাংশ জমির উপর ৩ তলা ভবন গড়ে তুলেছে। যার প্রতি শতাংশের মূল্য প্রায় ৮-১০ লক্ষ টাকা হলে মোট মূল্য আসে ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা। এমনিভাবে নলতার আশেপাশে এখন তারিকুলের সম্পত্তির জয়জয়কার। ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় তিনি এখন ফ্লাটের মালিক। এছাড়া এলাকার মোটা মূল্যের কোন জমি বিক্রয় হলেই বর্তমানে ক্রেতা একমাত্র এই তারিকুল ইসলাম। অথচ মাত্র কয়েক বছর আগেও সে ছিল এলাকার বেকার ভবঘুরে যুবক।
নব্য আ.লীগ নেতা ও নব্য কোটিপতির আয়ের উৎস এবং অবৈধ অর্থ-সম্পদের তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ উর্দ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানিয়েছে ত্যাগী ও প্রবীন আ.লীগের নেতা-কর্মীসহ এলাকার সচেতন মহল।