নড়াগাতিতে সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিশু ধষর্ণের অভিযোগ ॥ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু !

14

নিজস্ব প্রতিবেদক:  নড়াইলের নড়াগাতিতে এক উচ্চ পদস্থ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৮ বছর বয়সী শিশু শরিফাকে ধর্ষণের কারণে মৃত্যুর অভিযোগ এনেছেন ভিকটিমের পরিবার। ধর্ষণের শিকার শিশুটির বাড়ি নড়াগাতি থানার শুড়িগাতি গ্রামে। অভিযুক্ত মেজর সাজ্জাদ গাজী চোরখালী গ্রামের আলী গাজীর ছেলে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, নড়াগাতি থানার শুড়িগাতি গ্রামের মৃত. টুকু মোল্যার বিধবা স্ত্রীর শিশু কন্যা দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়–য়া শরিফা (৮) কে পড়ালেখা শেখানো, ভালো থাকাসহ বিভিন্ন প্রলোভনের কথা বলে গত ৭-৮ মাস পূর্বে ঢাকার কচুক্ষেত সেনানিবাসে কর্মরত মেজর সাজ্জাদ গাজীর মঈনুল রোডের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটি ভালো থাকার পরিবর্তে মুঠোফোনে প্রায়ই মাকে নানা অসুবিধাসহ কিছু অব্যক্ত কথা বলার আকুতি জানিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসার কথা বলতো। এরই মধ্যে হঠাৎ শুক্রবার (৩০ মার্চ) রাত দশটার দিকে মেজর সাজ্জাদ গাজীর স্ত্রী নার্গিস বেগমকে মুঠোফোনে জানায়, তার শিশু সন্তান শরিফা জ্বর-পাতলা পায়খানা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। খবর শুনে নার্গিস বেগম শনিবার সকালে রওয়ানা দিয়ে ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পায় তার সন্তান মুমূর্ষু জ্ঞানহীন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসক-নার্স কেউ মুখ খুলে রোগ সম্পর্কে কিছুই বলছে না। এরপর সোমবার সকাল দশটার দিকে নার্গিসকে নার্সরা শিশু শরিফার কফিন ভর্তি লাশ দেখালে তিনি নির্বাক হয়ে যান। সোমবার রাতে কফিন ভর্তি শরিফার লাশ শুড়িগাতি গ্রামে পৌঁছালে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয় এবং চারিদিকে সোরগোল পড়ে যায়। খবর পেয়ে নড়াগাতি থানা পুলিশ মঙ্গলবার সকালে লাশ থানায় নিয়ে সুরত হাল করেন। এ সময় নি¤œাঙ্গে কালো রক্ত জমাটবাধা দাগের চিহ্ন পাওয়া যায়। পায়ুপথের অস্বাভিবকতা দেখা যায় বলে পুলিশ জানিয়েছেন।
ভিকটিমের মাতা নার্গিস বেগম অভিযোগ করে আবেগ তাড়িত কন্ঠে বলেন, ‘মেজর সাজ্জাদ গাজী ধর্ষণ করার কারণে আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। আমি হাসপাতালে বার বার আমার মেয়ের কি হয়েছে জানতে চাইলেও এসব সম্পর্কে আমাকে কিছুই বলেননি। আমরা গরিব মানুষ। তাই সঠিক বিচার পাবনা।’
নিহতের মামা খসরুল ফকির বলেন, ‘প্রকৃত সত্য আড়াল করতে মেজর সাজ্জাদ গাজী আমাদেরকে টাকা-পয়সার প্রলোভন দেখিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন।’
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মেজর সাজ্জাদ গাজী মুঠোফোনে বলেন, ‘গত কয়েক দিন আগে শিশুটি হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হয়। সিএমএইচে ভর্তি করানোর পর রক্ত পরীক্ষায় তার ব্লাডে ইনফেকশন ধরা পড়ে। এতে ধারণা করা হয়, রক্তে ক্যান্সারের জীবানু বহন করছে। মুত্যুর সনদ তাদের নিকট দেয়া হয়েছে। ভিলেজ পলিটিক্সের শিকার হয়ে তারা এখন লাশের ময়না তদন্ত করছেন। আমার কাছে তারা টাকা-পয়সা চাচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। শিশুটির স্বাভাবিক মৃত্যুর সকল তথ্য প্রমাণ আমার কাছে আছে।’
এ প্রসঙ্গে নড়াগাতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘লাশের সুরত হাল করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্টে নি¤œাঙ্গে কালো রক্ত জমাটবাধা দাগের চিহ্ন এবং পায়ুপথের অস্বাভিবকতা দেখা গেছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত তথ্য জানা সম্ভব হবে।