খেয়াঘাটে নৌকা চালিয়ে ৫ নারীর চলছে জীবিকা নির্বাহ

18

সোনালী ডেস্ক : বরিশাল নগরের র্কীতনখোলা নদীর তীরে রসুলপুর কলোনীর খেয়াঘাটে নৌকা চালিয়ে ৫ নারীর চলছে জীবিকা নির্বাহ। পেটের তাগিদে ভোরের সূর্য জেগে ওঠার আগেই এই ৫ নারী মাঝি র্কীনখোলার বুকে ভাসিয়ে দেন নৌকা। র্দীঘ প্রায় ২৫ বছর এই ঘাটে এই খেয়ায় শ্রম দিলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদেও জীবন জীবিকার মান বাড়েনি বরং কমেছে। রোদে পোড়া কালো মুখে নেই হাসি, কণ্ঠে হতাশার সুর! তার পরও র্কীনখোলার বুকে নৌকা চালিয়ে এখনো বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেন এই ৫ নারী।

বর্তমানে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে নৌকা চালিয়ে আর জীবন চলে না। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর এপার ওপাড় মিলিয়ে ৫ নারীর নৌকা গুলো বাধা আর তাকিয়ে আছে যাত্রীর জন্য। কেউ কেউ ডাকছেন, ‘আহেন মামা, উডেন মোর নৌকায়। এভাবেই হাকা-হাকি করে সারা দিন নৌকা চালিয়ে পেটে-ভাতে চলছে তাঁদের জীবন। দিনের পর দিন ফুরালেও এই অবস্থার নেই কোনো পরিবর্তন। দিনে যা আয় করেন, তা ডাল ভাত খেতেই চলে যায়।

ওদিকে সপ্তাহের প্রায় ৫ দিনই রয়েছে সমিতির কিস্তি। দিন শেষে সঞ্চয় বলে আর কিছুই থাকে না। মাঝি মিষ্টি বেগম,মরিয়ম,শেফালী বেগম,ফিরোজা বেগম, সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সারা দিন নৌকা চালিয়ে তারা একজন নারী মাঝি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় করেন। যা দিয়ে জীবন চলানো দায়। যেমনটা জানালেন মাঝি মিষ্টি বেগম, ‘হারা দিন নাও চালাইয়া ২০০-৩০০ টাহা কামাই হরি। হেইয়া দিয়া পোলা মাইয়ারে পড়াশুনা হরাই,বাসা ভাড়া দিয়া দুইডা ডাইল বাত খাই অনেক কষ্ট কইরা। যাও একটা ঘর আছেলো চরে, সরকারী লোক আইয়া তাও ভাইঙ্গা দেছে। ৪ডা সমিতি দিয়া টাহা উঠাইয়া ঘর বানাইছেলাম।

এহোন কিস্তিও টানি,ঘর ভাড়াও দেই। আতে থাহেনা ১ টাহাও। ওসুক অইলে থাকতে হয় গরে হুইয়া। হেই দিন না খাইয়া থাহা লাগে। এডাই মোগো জীবন। ‘সময়ের বিবর্তনে দ্রব্য্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, নানা অজুহাতে পাবলিক পরিবহনের ভাড়াও বেড়েছে, কিন্তু বাড়েনি এই খেয়াঘাটের ভাড়া । তার উপর এখানকার যাত্রীরা সকলেই স্থানীয় হওয়ায় অনেকেই বিনা পয়সায় পাড়াপার হন। এই ৫ নারী মাঝিরা মানবেতর জীবন যাপন করলেও স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো সরকারই মাঝিদের কোনো ধরনের সাহায্য-সহযোগিতায় এগিয়ে আসেনি এমন অভিযোগ তাদের। কথা হলো মাঝি শেফালীর (৪৫) সঙ্গে। তিনি বলেন, মোগো বাড়ি বরিশালের সাইবের হাট। কিন্তু বাপ-দাদার জমি জমা অন্য লোকে ঠগাইয়া লইয়া গ্যাছে তাই ১০ বছর বয়স অইতেই নৌকা চালাই। হেই সময় রোজগার ভালো আছিলো, সংসারে কোনো অভাব আছিলো না। বাবা, অহন বড় দুঃখে আছি, ৪৫ বছর বয়স, অহনো নৌকা বাইয়া সংসার চালাই।

তিনি কেঁদে কেঁদে আরো বলেন,ছোট বেলা অইতেই যে নৌকার বৈডা আতে নিছি হেডা মরন পর্যন্ত যেন আতে থাহে। সর্ম্পকে এই ৫ নারী মাঝির মধ্যে ৩ জনই আপন বোন। এদেরই এক জন মরিয়ম (৫৫) বলেন, বিয়ার পর স্বামী ২ টা মাইয়া পোলা রাইখখা আরো ৪ডা বিয়া হরছে। মোগো খোঁজ খবর লয়না। অগো প্যাডে ২ডা ভাত দ্যাওয়ার জন্যই সকাল হইতে রাইত পর্যন্ত নৌকা বাইতে অয়। নৌকা না বাইলে খামু কি ?

তবে সরজমিনে গিয়ে এই ৫ নারী মাঝির সাথে কথা বলে জানাযায়, এরা প্রতেকেই বিভিন্ন সমিতি থেকে ৪/৫ টি করে লোন নিয়ে সেই লোনের জালে আটকে রয়েছেন। ইচ্ছা থাকলেও জীবন জীবিকার মান উন্নত করতে পাড়ছেননা তবে তাদের মধ্যেও রয়েছে সচেতনেতা। মাঝি মিষ্ঠি বেগম তার দুটো সন্তানের পড়া-শুনার জন্য বেশি টাকা ভাড়া দিয়ে শহরে বসবাস করেন। তিনি মনে করেন,রসুলপুরের প্রায় প্রতিটি ঘরেই রয়েছে মাদকের কারবার। তবে সব মাঝিরাই একটা বিষয়ে একমত যে, সরকার যদি তাদের দিকে একটু সুনজর দেয় তাহলে সুখ না বাড়ুক কষ্ট তো একটু কমবে।

পিএনএস