দামুড়হুদা উপজেলার ইটভাটায় পুড়ছে ফসলি জমির মাটি

12

ষ্টাফ রিপোর্টার ঃ দামুড়হুদা উপজেলায় উর্বর জমিতে এখন অবৈধ ইটভাটার ছড়াছড়ি। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, গাছের বাগান ও আবাদী জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটার আগুনের তাপে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কৃষি উর্বর ভূমির ফসল ও গাছপালা।

এছাড়া, কৃষকের ফসল ফলানো জমির মাটি কেটে ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করায় খেতগুলো গর্ত বা ডোবা নালায় পরিণত হচ্ছে। কিন্তু পরিবেশ অধিদফতর, প্রশাসন, কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কারও যেন এ ব্যাপারে কোনো ভূমিকা নেই।

ফলে এ অঞ্চলের কৃষি উর্বর ্র ভূমিগুলোতে ফসল উৎপাদন বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এলাকার কৃষক, সচেতন নাগরিক এ ব্যাপারে সোচ্চার হলেও কিছু অসাধু চতুর লোকের করসাজিতে হার মানতে বাধ্য হয়েছেন বারবার। এক শ্রেণীর মানুষ কৃষকদের বুঝাতে সক্ষম হয় ফসলের চেয়ে জমির মাটি বিক্রি বা জমি ভাড়া দিয়ে বেশি লাভবান হওয়ার প্রলোভন দেওয়া হচ্ছে ও উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে ফসল উৎপাদনে করা হচ্ছে অনুৎসাহিত।

অথের্র প্রলোভন ও উদ্বুদ্ধের কারসাজিতে নাজেহাল হয়ে পড়ছেন কৃষকরা। এভাবেই ইটভাটার কব্জায় নেয়া হচ্ছে একর পর এক কৃষি উর্বর ভূমিগুলো। দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা-কুড়–লগাছি এলাকা সবচেয়ে বেশি কৃষি উবর জমি।

যার ফলে এসব এলাকায় সারাবছরই ফসল উৎপন্ন হয়। ধান, গম, ভুট্টা, আলু, বেগুন, শিম, পেঁয়াজ, মরিচ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, পটল, পুঁইশাক, লালশাক, ধনেপাতাসহ বিভিন্ন তরি-তরকারির চাষ হয় এবং বীজ ও চারা উৎপন্ন হয়।

এখান থেকে প্রতিদিন ট্রাক তরি-তরকারি ও নানা খাদ্যশস্য নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যায়। কিন্তু বর্তমানে এসব উর্বর ্র জমিতে স্থাপন করা হয়েছে ইটভাটা। আর ইটভাটার অগ্নিশিখার তাপে পুড়ছে জমিগুলোর ফসল, ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন।

কৃষকরা জানান, ইটভাটা হওয়ার পর থেকে তাদের জমিগুলোতে ফসল ও ফলন ভালো হয় না।

ফসলে বিভিন্ন ধরনের রোগ-বালাই দেখা দেয়। তাই ফসল উৎপাদন করতে না পারায় এবং অর্থনৈতিকভাবে কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় নিরুপায় হয়ে উর্বর জমির মাটি বিক্রি করে দিচ্ছে।

ফলে কৃষি উর্বর জমিগুলো একের পর এক ডোবা-নালা ও গর্তে পরিণত হচ্ছে।

তবে কেন অনাবাদী জমির পরিবর্তে ্র উর্বর জমিতে ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে, এসব প্রশ্নের উত্তর কে দিবে, কোনো বিভাগ।

তবে তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইটভাটার জমিগুলো অধিক কৃষি উর্বর হলেও কাগজে দেখানো হয়েছে অনাবাদী।

পরিবেশ অধিদফতর, কৃষি অধিদফতরের এমন দায়িত্ব পালনে তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সাধারণ জনগণই।

দেশে এত সুন্দর আইন থাকা সত্ত্বেও কিভাবে কৃষি উর্বর ফসলি জমিতে ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে এবং অবৈধ হলেও তা কিভাবে চলমান আছে, সেটাই এখন প্রশাসনের কাছে সচেতনমহলের প্রশ্ন। যেকোনো উপায়েই হোক না কেন, কৃষি উর্বর এই জমিগুলো উদ্ধার করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার কৃষকসহ উপজেলার সচেতন মানুষ।