দিনভর মিলনমেলায় ছয় হাজার চাকরিপ্রার্থী

15

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ছয় হাজার চাকরিপ্রার্থীর মিলনমেলার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে কাজী আইটি ক্যারিয়ার বুট ক্যাম্প। শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের (বিআইসিসি) হল অব ফ্রেমে অনুষ্ঠিত এই মেলার আয়োজন করে শীর্ষস্থানীয় আইটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান কাজী আইটি সেন্টার।

এই আয়োজনে সহযোগিতায় ছিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের লিভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ, অ্যামপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (এলআইসিটি) প্রকল্প।

দিনব্যাপী ক্যারিয়ার বুটক্যাম্পে দুই ভাগে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ছয় হাজার চাকরি প্রার্থীকে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে আজ ২০ জনের হাতে কাজী আইটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সনদ তুলে দেয়া হয়। বিকালে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এ সনদ তুলে দেন।

সারাদেশ থেকে ১৫ হাজার প্রতিযোগী এই আয়োজনের অংশ নেয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেন। কয়েক ধাপে বাছাই প্রক্রিয়া শেষে ছয় হাজার চাকরি প্রার্থীকে কাজী আইটি ক্যারিয়ার কুটক্যাম্পে আমন্ত্রণ জানানো হয়। যারা বাদ পড়েছেন তাদের জন্য অনুষ্ঠানটি লাইভ সম্প্রচারের ব্যবস্থা করে কাজী আইটি।

অনুষ্ঠানের সমাপনী কক্তব্যে কাজী আইটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইক কাজী বলেন, ‘যারা চাকরি উৎসবে অংশ নিয়েছেন লাইভে অথবা এখানে এসে তারা অনুষ্ঠান থেকে কী শিখলেন এর ওপর একটি প্রেজেন্টেশন বানিয়ে কাজী আইটিতে পাঠাবেন। এর জন্য সময় ৩০ দিন। তবে যারা আগে পাঠাবেন তাদের প্রাধান্য দেয়া হবে।’  hr@kaziitcenter.cmo এই ঠিকানায় পাঠাতে হবে বলে জানা তিনি। প্রেজেন্টেশন বাছাই করে অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই একজন কাজী আইটিতে নিয়োগ পাবেন।

কাজী আইটি ক্যারিয়া বুট ক্যাম্পে ফিউচার লিডারের লিড কনসালটেন্ট ও সিইও কাজী এম আহমেদ, মোটিভেশনাল স্পিকার জি. সামাদনি ডন, রবি টেনমিনিট স্কুলের উদ্যোক্তা আয়মান সদিক, হিউম্যান ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ জিশু তরফদার, বাংলাদেশ অর্গানাইজেশন ফর লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা রুশদিনা খানসহ কাজী আইটির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মাইক কাজী এবং কাজী আইটির চিফ অপারেটিং অফিসার জন রিডেল রিসোর্স পার্সন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন। দুইটি সেশনে বক্তারা চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ের ওপর মনোযোগ দিতে হবে তা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন।

আলোচনা ছাড়াও চাকরিপ্রার্থীদের জড়তা কাটানোর জন্য ছিল নাচ-গানসহ নানা বিনোদনের ব্যবস্থা।

অনুষ্ঠান শেষে ঢাকাটাইমসকে মাইক কাজী বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠান থেকে ধানমন্ডি অফিসে ৪০০ জনকে চাকরি দিতে পারলে আমি খুশি হবো। যদিও আমাদের প্রচুর লোকবল প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘চাকরিপ্রার্থীকে অবশ্যই ইংরেজিতে দক্ষ হতে হবে। সে কোন বিষয় পড়াশোনা করেছে সেটা জরুরি না। তবে তাদের বুদ্ধিমত্তা, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও নেতৃত্বসুলভ মনোভাব থাকতে হবে। কাজী আইটিতে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি নতুন গ্র্যাজুয়েটদেরও নিয়োগ দেবে। আমাদের রাজধানীর নিকুঞ্জ, ধানমন্ডি এবং রাজশাহী অফিসের জন্য অ্যানালিস্ট, অ্যাসিস্টেট ম্যানেজার ও পদে লোক লাগবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, ‘শুধু এই অনুষ্ঠানের জন্য আমি নাটোর থেকে এখানে এসেছি। আমি অবাক হয়ে গিয়েছি এত সুন্দরভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনা হয়েছে দেখে। যারা চাকরি প্রার্থী তাদের কোনো টাকা দিতে হয়নি। আবার তাদের জন্য রাখা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এই কাজী আইটি ক্যারিয়ার বুট ক্যাম্পে এসে তরুণদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা অনুভব করছি। এরকম ক্যারিয়ার বুট ক্যাম্পের মাধ্যমে মেধাবী তরুণরা কাজী আইটির মতো প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পেল।’

এসময় পলক বলেন, ‘আগামী ২০২১ সালে মধ্যে ২০ লাখ তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী তৈরির লক্ষ্য নিয়েছি আমরা। এই ক্যারিয়ার বুট ক্যাম্প সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। অন্য প্রতিষ্ঠানও এমন অনুষ্ঠান আয়োজনে ‍উৎসাহিত হবে।’

বক্তব্যের শেষে মাইক কাজী প্রতিমন্ত্রীকে একটি গান গাইতে বলেন। জুনায়েদ আহমেদ পলক গিটার হাতে নিয়ে গান গান। প্রতিমন্ত্রীর কণ্ঠে গান শুনে চাকরিপ্রার্থীরা বেশ উজ্জীবিত হন। অনুষ্ঠান শেষে ট্রেইনাদের সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়।