নতুন সংসারের আশায় অপহরণ করা হয় রাবি ছাত্রীকে

18

তালাকনামা প্রত্যাহারের মাধ্যমে নতুন করে সংসার করার আশায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্রী উম্মে শাহী আম্মানা শোভাকে অপহরণ করা হয়। মেয়েটির পাঠানো তালাকনামা জোর করে প্রত্যাহারে অপহরণের পর তাকে ঢাকার একটি কাজি অফিসেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে সেখান থেকেই শোভাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

রবিবার দুপুরে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার মাহবুবর রহমান তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, কাজি অফিস থেকে শোভার সাবেক স্বামী সোহেল রানা ও জাহিদুল ইসলাম নামে মাইক্রোবাসের এক চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে সোহেল রানার বাবাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তার নাম জয়নাল আবেদীন। তাকে গ্রেপ্তারের পর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ঢাকা থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। রাজশাহী পুলিশের এই অভিযানে সহায়তা করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। সোহেল রানা পেশায় একজন আইনজীবী। নওগাঁর পত্মিতলা উপজেলার নজিপুর গ্রামে তার বাড়ি।

পুলিশ কমিশনার জানান, রাবির বাংলা বিভাগের শেষবর্ষের শিক্ষার্থী শোভা নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি এলাকার আমজাদ হোসেনের মেয়ে। গত ডিসেম্বরে সোহেলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সস্প্রতি শোভা তার স্বামীর কাছে তালাকনামা পাঠিয়েছেন। তালাকের বিষয়টি এখন প্রক্রিয়াধীন। এ অবস্থায় তালাকনামা প্রত্যাহারে মাধ্যমে নতুন করে সংসার শুরুর আশায় শোভাকে অপহরণ করা হয় বলে পুলিশকে জানিয়েছেন সোহেল রানা।

পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুবর রহমান জানান, শোভাসহ গ্রেপ্তার সবাইকেই শনিবার দিবাগত রাতে রাজশাহী নিয়ে আসা হয়। রবিবার বিকেলে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিন আদালতে ওই ছাত্রীর জবানবন্দিও রেকর্ড করানো হয়েছে। এর আগে সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার জানান, মেয়েটিকে নির্যাতন করা হয়েছে, এমন কথা তিনি জানাননি। তবে পুলিশের নিয়ম অনুযায়ী তার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে। আর এই অপহরণের ঘটনায় নগরীর মতিহার থানায় শোভার বাবার করা মামলাটি তদন্ত করছেন পুলিশ পরিদর্শক ইসমাইল হোসেন।

তিনি জানান, আদালতে গ্রেপ্তার তিন আসামির রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয়নি। শুনানি শেষে রিমান্ড মঞ্জুর হলে তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। মামলার বাকি তিন আসামিকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গত শুক্রবার সকালে রাবির তাপসী রাবেয়া হলের সামনে থেকে শোভাকে একটি মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরীক্ষা দিতে যাওয়ার জন্য ওই দিন শোভা হল থেকে বের হয়েছিলেন। অপহরণের পর তার সন্ধান দাবিতে ওই দিন থেকেই আন্দোলনে নামেন হলের শিক্ষার্থীরা। ঘোরাও করা হয় উপাচার্যের বাসভবনও। পরে শনিবার দুপুরে ঢাকা থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ।