কম দামে মোটর সাইকেল কেনার সময় যাচাই করার পরামর্শ পুলিশের

15

কম দামে মোটর সাইকেল কিনে আইনি ঝামেলায় না পড়তে কেনার আগে সকল কাগজপত্র যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম-কমিশনার মো. আবদুল বাতেন।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলণে তিনি এসব কথা বলেন।

আবদুল বাতেন বলেন, অনেকেই কম দামে মোটর সাইকেল পেয়ে কিনে থাকেন। তারা সাধারণত মোটর সাইকেলের কাগজপত্র যাচাই করেও দেখেন না। এমনটি হলে ক্রেতা পরবর্তীতে আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।

পুলিশ যখন অনুসন্ধান করে একটি চোরাই মোটর সাইকেল খুঁজে বের করে, দেখা যায় এর মালিক মোটর সাইকেলটি অন্য আরেকজনের কাছ থেকে কিনেছেন বলে জানায়- তখন যার কাছ থেকে ওই ব্যক্তি মোটর সাইকেল কিনেছেন তাকে খুজে বের করতে হয়। এক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতা দুইজনই অপরাধী উল্লেখ করে এ গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কিন্তু যিনি মোটর সাইকেলটি চুরি করেছেন তিনি মূল অপরাধী। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাককে হবে।

 

এর আগে মঙ্গলবার রাতভর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগ কামরাঙ্গীরচর, নিউমার্কেট ও ডেমরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেল চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নয়জনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময়ে তাদের কাছ থেকে ১৮ টি চোরাই মোটর সাইকেলও উদ্ধার করা হয়।

এর মধ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পশ্চিম বিভাগ ১২টি চোরাই মোটর সাইকেলসহ রাজিব মুন্সি, আবদুর রহিম, জাকির হোসেন ও মোক্তার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। অন্যদিকে ডিবির পূর্ব বিভাগ গ্রেপ্তারদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি।

আবদুল বাতেন বলেন, ‘মোটর সাইকেল চোর চক্রের মূল টার্গেট হলো মেডিকেল কলেজ এলাকাগুলো। কারণ এ সকল এলাকায় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টিটিভদের মোটর সাইকেলসহ আরো মোটর সাইকেল সারিবদ্ধভাবে রাখা থাকে। এতো মোটর সাইকেলের মধ্যে কেউ খেয়াল করতে পারে না, আর তখনই তারা (চোর) দ্রুততম সময়ের মধ্যে চুরি করে।’

 

গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, চক্রটি চুরি করা মোটর সাইকেল মাদারীপুর শিবচর, শরীয়তপুর ভবেরচর, নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে রেখে বিক্রি করে। তাদের অন্য আরেকটি দল এ কাজটি করে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিআরটিএর কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজস রয়েছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই চক্রটি মোটর সাইকেলের নতুন নম্বর বানিয়ে বিক্রি করে। তবে চেসিসের নম্বরের সঙ্গে নম্বর প্লেটের কোনো মিল থাকে না।

গ্রেপ্তাকৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে এ চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান গোয়েন্দা পুলিশের এ যুগ্ম-কমিশনার।