কুচিয়া ও কাঁকড়া চাষ বদলে দিতে পারে মৎস্য সেক্টরে বৈদেশিক আয়ের চিত্র

24

সোনালী ডেস্ক :  বাংলাদেশে কুচিয়া ও কাঁকড়া চাষ বদলে দিতে পারে মৎস্য সেক্টরে বৈদেশিক আয়ের চিত্র। ঘুচাতে পারে দারিদ্র। এই সম্ভাবনায় মৎস্য অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশের নির্বাচিত এলাকায় কুচিয়া ও কাঁকড়া চাষ এবং গবেষণা প্রকল্প। বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে প্রকল্পটি গত ২০১৫ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ৩০ জুন শেষ হবে। ইতোমধ্যে ২৫ কোটি ৭৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকার এই প্রকল্পের ৫০ ভাগেরও বেশি কাজ শেষ হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক ড. বিনয় কুমার চক্রবর্তী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কুচিয়া ও কাঁকড়ার বিপুল চাহিদা রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কুচিয়া ও কাঁকড়া চাষের উন্নত কলা-কৌশল চাষিদের মাঝে হস্তান্তর করা হচ্ছে। এতে দেশের মৎস্য সম্পদের উৎপাদন বাড়বে। একই সঙ্গে স্থানীয় উদ্যোক্তা তৈরীর পাশাপাশি উন্নত হবে বাজার ব্যবস্থা।

প্রকল্পের আওতায় পুকুরে কিশোর কাঁকড়া চাষে ২৪৪টি, পেনে ( খাঁচার মতো এক ধরনের পাত্র) কাঁকড়া মোটাতাজাকরণে ৩৪৬টি, খাঁচায় কাঁকড়া মোটাতাজাকরণে ৩৪১টি, উন্মক্ত জলাশয় বা পুকুরে কুচিয়া চাষে ২৫৬টি, মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের পুকুরে খাঁচায় কুচিয়া চাষে ১৪টি এবং মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের সিস্টানে কুচিয়ার পোনা উৎপাদন ও চাষের জন্য ১৯টি প্রদর্শনী করা হবে। এই সঙ্গে প্রকল্পটির আওতায় ৩৬৮ ব্যাচে ৭৩৬০ জন চাষি ও ৪৫ ব্যাচে অধিদপ্তরের ৯০১ জন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। ১২ ব্যাচে ২৪০ জন অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য সফর করছেন। উদ্বুদ্ধকরণের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে ১১৪০০ জনকে। এছাড়া ১টি কাঁকড়া হ্যাচারি নির্মাণ হচ্ছে এই প্রকল্পের আওতায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জেলা পর্যায়ে ৩৩টি এবং কেন্দ্রীয়ভাবে ১টি ওয়ার্কশ বা সেমিনার আয়োজন করা হচ্ছে।

ঢাকার বিভাগের টাঙ্গাইল ও গোপালগঞ্জ; ময়মনসিংহের নেত্রোকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর; বরিশালের বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা ও পিরোজপুর, রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী, নাটোর, নওঁগা, বগুড়া, চাপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা; সিলেটের হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার, রংপুরের দিনাজপুর, চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, ব্রাম্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, কক্সবাজার ও নোয়াখালী এবং খুলনা বিভাগের খুলনা, সাতক্ষিরা ও বাগেরহাট জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় আবাসস্থলের উন্নয়নের মাধ্যমে পুকুর ও ধানক্ষেতে কুচিয়া ও কাঁকড়া চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন, সামাজিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কুচিয়া ও কাঁকড়া চাষে দেশীয় জ্ঞান সম্প্রসারণ, কুচিয়া ও কাঁকড়া চাষ ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পৃক্ত সব স্টেক হোলল্ডারদের সক্ষমতা বাড়ানো, দরিদ্র সুফলভোগী বিশেষ করে আদিবাসীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং কুচিয়া ও কাঁকড়া রপ্তানী ক্ষেত্র তৈরী করা হবে।